নাসিরের বোনকে নিয়ে ঢাবি ছাত্রীর যে স্ট্যাটাসে ফেসবুকে তোলপাড়

ভারতের সঙ্গে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার সময় নাসির তার ছোট বোনের সাথে তোলা একটি ছবি তার ফেসবুক ফ্যান পেজে দেয়ার পর আমাদের দেশের অনেক দুষ্টু ছেলে তা দেখে একটু দুষ্টুমি করে কিছু দুষ্টু মন্তব্য করেছে যা অনেকেরর বিবেকে গিয়ে বিঁধেছে। আপনি লজ্জায় মাথা নত করে ভাবছেন- কি অসভ্য এই জাতি!! অবশ্য নাসিরের বোন না হয়ে আম-ভাইয়ের কোন বোন হলে আপনাদের এতো লজ্জা লাগতো কিনা জানি না!! সারাদেশে নারী নির্যাতন বাড়ছে। পত্রিকা খুললেই কয়েকটা ধর্ষণের খবর পেতেই হবে। তাও অনেকগুলা আসেই না। অনলাইনে ও রিয়াল লাইফে নারীরা প্রতিনিয়ত নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। জাতি হিসেবে আমরা এতো সহনশীল হয়ে উঠছি যে এসব আমাদের মনে আর কোনো প্রতিক্রিয়াই ফেলে না বোধহয়। মুখে বা ফেইসবুকে অনেক বড় বড় কথা বললেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ বা এই অসভ্যতাকে পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করারও কোন ইচ্ছা কারো হয়না। ইভেন্টে গোয়িং দিয়েই আপনি আপনার বিরাট প্রগতিশীলতা প্রদর্শন করেই আত্মতৃপ্তিতে মজে যান। এভাবেই এই ধর্ষক- নিপীড়কে ভরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ পরিবর্তন হবে!! আর রাষ্ট্র? রাষ্ট্র তো এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক! ধর্ষণ- নিপীড়ন এখন একটা মৌলিক অধিকার যা রাষ্ট্র নিশ্চিতকল্পে বদ্ধ পরিকর। প্রকাশ্যে কাপড় খুলে নেয়ার পরেও এই রাষ্ট্রের বিচার করে দেখে তা তেমন কোনো ঘটনাই না বা এটা কিছু ছেলেদের সামান্য দুষ্টুমি মাত্র। ধর্ষক- নিপীড়কদের ধরিয়ে দিলেও রাষ্ট্র তাদের ছেড়ে দেয়। কখনো বা পুলিশ গিয়ে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দিয়ে তার মহান দায়িত্ব পালন করে আসেন। আবার রাষ্টীয় মদদে অনেকেই এক বা একশ ধর্ষণ সেলিব্রেটও করেন এখানে। আপনি ভাবছেন এইসব পরিবর্তন বা বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের। তা তো বটেই। কিন্তু রাষ্ট্র যদি সেই দায়িত্ব পালন না করে বরং তা জিইয়ে রাখা ও আরো বাড়াবার পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেই চলে- তাহলে আপনি তখনো কি একজন সচেতন- শিক্ষিত-বিবেকবান মানুষ হিসেবে নির্বিকার থাকবেন? নাকি সেই রাষ্ট্রকে ভাঙ্গবার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন যেকোন মাত্রায়? _রাষ্ট্র প্রণীত যে শিক্ষা ব্যবস্থা, তাতে কি আমাদের দেশের মানুষ নারীদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে শেখে? যখন অংক বইয়ে বাচ্চা ছেলেটা পড়ে চারজন পুরুষ একটা কাজ ১ দিনে করতে পারে, সেই কাজ ১০ জন নারী ২ দিনে সম্পন্ন করে- তখন সেই ছেলেটা বৈষম্যের ধারণাটা নিয়েই যদি বড় হয় আর বাচ্চা মেয়েটা নিজেদের দুর্বল ও হীন ভেবে বড় হয়, তখন আপনি কিভাবে আশা করেন জাতিকে রাষ্ট্র সুশিক্ষা দিল? _যখন রাষ্ট্র গার্হস্থ্য ও কৃষি- দুটো বিষয় একসাথে সবাইকে না পড়িয়ে বৈষম্যমূলক বিভাজন করে দেয়, তখন আপনি কিভাবে আশা করেন যে পুরুষরা ভাববে রান্নাবান্না, ঘর-গৃহস্থালির কাজ ও বাচ্চা লালন-পালন তাদেরও সমান দায়িত্ব এবং নারীরা ভাববে যে কৃষিতে বা ঘরের বাইরে আমিও পুরুষের সমান অবদান রাখতে সক্ষম? এমনি আরো অনেক বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক শিক্ষা এখানে বিদ্যমান। _যখন রাষ্ট্র দিনের পর দিন ধর্ষক- নিপীড়কদের বিচার করে না; _যখন রাষ্ট্র অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে বা ভিন্নমত দিলে, ধর্ম নিয়ে সামান্য একটা স্ট্যাটাস বা যুক্তি দেখালে বন্দি করে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার রূপ দেখায় এবং অনলাইনে নারীদের যৌন হয়রানি করলে বা খুনের হুমকি দিলে এমনকি প্রকাশ্যে এসব করলেও রাষ্ট্র নির্বিকার ভূমিকা করে; _যখন রাষ্ট্রের পরিচালিত পুরুষ পুলিশ ধর্ষণ করে আরেক পুলিশ নারীকে অথবা ইয়াসমিনদের; _যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৈধ বা অবৈধ উপায়ে দখল করে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ধর্ষণ- নিপীড়ন ও নারী নির্যাতনের অপ-উৎসবে নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে মেতে ওঠে; _যখন অবাধে পর্ণোগ্রাফি সিডি-বই বিক্রি হয়; _যখন রাষ্ট্র অশ্লীলতা- অপসংস্কৃতি রোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয় না; _যখন সিনেমা-নাটক- বিজ্ঞাপনে নারীকে এমনকি পুরুষকেও যৌন-প্রডাক্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়; যখন রাষ্ট্র আইন করে বিয়ের বয়স কমিয়ে বাল্যবিবাহকে বৈধতা দিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে অপ্রস্তুত কিশোরীকে ধর্ষণের বৈধতা দেয়__ তখনও কি আপনি মনে করেন এই রাষ্ট্র নারীর ক্ষমতায়ন চায়, নারী-পুরুষ বৈষম্য নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ভাঙ্গতে চায়, মানুষের চিন্তার জগতে পরিবর্তন এনে সুন্দর সমাজ গড়তে চায়, অপরাধীদের বিচার করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়? যদি ভাবেন রাষ্ট্র আমাদের সাথে অন্যায় করছে, প্রতিনিয়ত আমাদেরকে ও মানবসভ্যতাকে ধর্ষণ করে চলেছে- তাহলে আমাদের ন্যায্য অধিকার, নীতি-নৈতিকতা-মূল্যবোধসম্পন্ন নারী-পুরুষের সম্মিলিত সাম্যের সমাজ গড়ার লড়াই আমাদেরই করতে হবে। রোকেয়া বলেছিলেন- তৃষ্ণার্তের নিকট কূপ যায় না, কূপের নিকট তৃষ্ণার্তকে যেতে হয়।
Share on Google Plus

About Abu Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment